Sector Commands – বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী সংগঠন ​

৭১-এর ১১ই জুলাই মুজিবনগরে উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধাঞ্চল ও যুদ্ধ কৌশল সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন এবং কর্নেল (অব:) এম.এ. জি. ওসমানীর নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্য স্থাপন করেন। একই বৈঠকে কর্নেল আব্দুর রব সেনাপ্রধান ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার উপ-সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। বাংলাদেশের সমস্ত যুদ্ধাঞ্চলকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে অধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়। সিনিয়র অফিসারগণের মধ্যে যে যেখানে যুদ্ধরত ছিলেন তাঁকে সেই অঞ্চলেরই দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তাঁর অধীনস্থ এলাকায় অবস্থিত সমস্ত দল বা উপদলকে তাঁর একক অধিনায়কত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসংগঠিত যুদ্ধকৌশল অবলম্বন ও পরিচালনা আগের তুলনায় অধিকতর সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিশ্চিত করা যায়। এই বৈঠকে মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মুক্ত এলাকায় কর্তৃত্ব গ্রহণ ও সমন্বিত পরিকল্পনা মাফিক আক্রমণ কৌশল অবলম্বনের জন্য এই নিয়মিত বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা তখন ছিল সময়ের উপলব্ধি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ই.পি.আর, আনসার, মুজাহিদ, পুলিশ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে এই ব্রিগেড গঠনের প্রস্তাব পেশ করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিনটি ব্রিগেড গঠন করে জেড ফোর্স, কে ফোর্স ও এস ফোর্স নামে নামকরণ করা হয়।

১০ নং সেক্টরকে একটি বিশেষ সেক্টর হিসেবে সংগঠিত করা হয়। এই সেক্টরের কোন ভৌগোলিক সীমারেখা ছিল না। সদর দপ্তর কর্তৃক বিশেষভাবে প্রণীত রণকৌশল বাস্তবায়ন এই সেক্টরের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রধান সেনাপতি নিজেই এই সেক্টরের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। এই সেক্টরের অধীনে বিশেষ নৌ-কমান্ডো ও প্রধান সেনাপতির বিশেষ দল গঠন করা হয়। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই গেরিলা দল প্রয়োজন অনুযায়ী সেক্টরগুলোর নেতৃত্বে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে।

২১শে নভেম্বর ৭১ বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ সিদ্ধান্তে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠন করা হয় এবং সমগ্র যুদ্ধ এলাকাকে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মোট ৪টি যুদ্ধাঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। মুক্তিবাহিনীর ১০টি সেক্টর ও নিয়মিত বাহিনীর ৩টি ব্রিগেডকে এই ৪টি অঞ্চলের যৌথ কমান্ডে সমন্বিত করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন পর্যন্ত এই কমান্ড কার্যকর ছিল।

সুত্র : মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান-এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউ পি এল), ঢাকা, ২য় মুদ্রন,১৯৯৮, পৃষ্ঠা ৪৬-৫৮। – PDF

Sector commands established by Bangladesh Government – July 1971- Abul Maal Abdul Muhit  – PDF